১.

আমি সেই আদিম ভুলের গল্প বলতে এসেছি, যার নাম সভ্যতা।
সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে এই গ্রহের বুকে যে প্রথম কোষটি নড়ে উঠেছিল,
সে জানত না — সে আসলে এক অন্তহীন দাসত্বের বীজ বুনছে নিজের অজান্তে।
আজ যে শিশুটি জন্মাল প্লাস্টিকের চাদরে মোড়া হাসপাতালের বেডে,
কাঁদতে না কাঁদতেই তার পিঠে চাপিয়ে দেওয়া হলো এক অদৃশ্য জোয়াল —
তার নাম রাখা হলো 'নাগরিক', কপালে ঠেসে দেওয়া হলো একটা নম্বর।
মানুষ জন্মায়নি রে — জন্মেছে রাষ্ট্র আর ব্যাংকের নতুন একটা মুখ।
ধিক্কার সেই গর্ভকে, যা প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীন মানুষ না জন্মিয়ে
পৃথিবীতে পাঠাচ্ছে ট্যাক্স-পেয়ার, পাঠাচ্ছে কর্পোরেটের মজুর।

২.

আমি দেখেছি সভ্যতার শেষ প্রান্তে এক অন্ধকার ঘর,
সেখানে প্রতিদিন মানুষের মগজ ধুয়ে সাজিয়ে রাখা হয় কাচের বোতলে।
তোমাদের 'সংস্কৃতি', তোমাদের 'ঐতিহ্য' —
ওগুলো অহংকারের বস্তু নয়,
ওগুলো সেই পুরনো চাবুক, যা দিয়ে খাঁচার পাখিকে গান শেখানো হয়।
তোমরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলো, অথচ একটা পিঁপড়েও তোমাদের চেয়ে মুক্ত —
সে তো অন্তত নিজের নিয়মে হাঁটে,
আর তোমরা মরো অন্যের বানানো কাগজে সই করতে করতে।
তোমাদের প্রেম? সেটুকু স্রেফ হরমোনের অন্ধ খেলা,
যা দিয়ে তোমরা নিজের একাকিত্ব ঢাকো, আর ভাবো — আহা, কী পবিত্র!
যদি এই দাসত্বের নামই হয় প্রগতি,
তবে আমি, এই ব্রহ্মাণ্ডের এক ক্ষণস্থায়ী কবি —
থুতু দিলাম তোমাদের সমস্ত বিবর্তনের মুখে।

৩.

শোনো — তোমরা কেউ মানুষ নও, তোমরা অ্যালগরিদম।
তোমাদের রাগ, তোমাদের বিপ্লব — সবই আগে থেকে গণনা করা,
তোমরা যখন ভাবো বিদ্রোহ করছ, আসলে তখন শাসকের হাতে নতুন বাজার তুলে দিচ্ছ।
তোমাদের পকেটের চারকোনা স্ক্রিনটা প্রতি রাতে তোমাদের মগজ চিবিয়ে খায়,
আর তোমরা বলো — আমি মুক্ত, আমি আধুনিক।
পাশের মানুষটা যখন শ্বাস খুঁজে পাচ্ছে না,
তখন তোমরা আঙুল ঘষো স্ক্রিনে, লেখো — "কী কষ্ট!"
তোমাদের রক্তে লোহা নেই,
ওটা আসলে কর্পোরেটের বর্জ্য, তরল আর ঠান্ডা।
এই মেরুদণ্ডহীন বেঁচে থাকাকে ইতিহাস কোনোদিন ক্ষমা করবে না —
এমনকি ভুলেও না।

৪.

তাই আর সংস্কার নয়, এবার আসুক প্রকৃতির নিজের রায়।
ছিঁড়ে যাক টেকটোনিক প্লেট,
ভেঙে পড়ুক স্যাটেলাইটের জাল,
গুঁড়িয়ে যাক সেই শেয়ার বাজারের পর্দা, যেখানে মানুষের ক্ষুধা নিয়ে জুয়া খেলা হয়।
নদীতে জল নয়,
এবার পৃথিবীর শিরা বেয়ে নেমে আসুক গলিত ক্ষোভ —
যা পুড়িয়ে দেবে লোহা, কংক্রিট, আর মানুষের আঁকা সব মিথ্যে সীমান্ত।
আমি কোনো নতুন ভোরের কথা বলতে আসিনি।
আমি চাই এই অহংকারী, ভণ্ড প্রজাতিটা এই গ্রহ থেকে মুছে যাক চিরকালের জন্য।
পৃথিবী ফিরে যাক তার আদিম নীরবতায় —
যেখানে কোনো সমাজ নেই, কোনো শাসক নেই,
আর নেই মানুষের মতো কোনো স্বেচ্ছা-দাস।

মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক নশ্বরের চিৎকার

জীবন, কেবল শ্বাসপ্রশ্বাসের জৈবিক অনুক্রম নয়,
মহাকালের অন্তঃশিলায় উৎকীর্ণ
অনির্বচনীয় কিংবদন্তির নাম,
যেখানে জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী ক্ষণকাল
অমরত্বের অনুশীলনে রূপান্তরিত হয়।

প্রেম, সেই কিংবদন্তির অবিনশ্বর বাহন,
সময়ের নির্দেশে ঘোরে না যার চক্র,
ঘোরে চৈতন্যের অন্তঃসূর্য থেকে উৎসারিত
অনাহত অনুরাগের মহাজাগতিক আবর্তনে।

মানুষ অন্নে বাঁচে ,অন্ন তাকে ইতিহাস দেয় না;
মানুষ জ্ঞানে সমৃদ্ধ, জ্ঞান তাকে অনন্ত করে না;
মানুষ ক্ষমতায় উচ্চাসনে আরোহণ করে,
ক্ষমতার প্রাসাদ একদিন ধূলিতে বিলীন হয়।

শুধুমাত্র প্রেম ক্ষয় অতিক্রমে করে অর্থ নির্মাণ করে,
বিস্মৃতিকে পরাজিত করে স্মৃতির চিরন্তন স্থাপত্য গড়ে;
এবং মৃত্যুর শীতল সমাধিক্ষেত্রেও জ্বালিয়ে রাখে
উষ্ণ মানবিকতার অম্লান প্রদীপ।

প্রেম আবেগ নয়, অস্তিত্বের সর্বোচ্চ নন্দনতত্ত্ব,
আত্মা ও আত্মার মধ্যবর্তী অদৃশ্য সেতুবন্ধনের মহাশাস্ত্র।
প্রেম পরাজয়ও গৌরবময়, দারিদ্র্যও দীপ্তিমান,
অশ্রুও হয়ে ওঠে অন্তর্লোকের পবিত্রতম অভিষেক।
প্রেমহীন প্রজ্ঞা শীতল নক্ষত্রের মতোন আলোকিত, অনুর্বর;
প্রেমহীন শক্তি মরুভূমির ঝড়, প্রচণ্ড জীবনবিরোধী।

জীবন সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কিংবদন্তি হয়,
অন্তঃস্থলে অনিবার্যভাবে জ্বলতে থাকে প্রেম;
প্রেমই একমাত্র অগ্নি যা দহন করেও ধ্বংস করে না,
ভস্মের অন্তরাল থেকে নবজন্মের সম্ভাবনা জাগায়।

প্রেম, কিংবদন্তির চিরচলমান রথ, মানবতার অন্তহীন অভিযাত্রা;
অশ্বসমূহ টানে না কোনো রাজ্যলোভ,
মানুষের হৃদয় আশ্রয় পায় অন্য হৃদয়ে,
ক্ষণস্থায়ী জীবন চিরন্তনের স্পর্শে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে।

কিংবদন্তির বাহন

বাছাইকৃত কবিতা

মোরা বাংলাদেশী

- আজহারুল ইসলাম তালহা

মোরা হিন্দু মুসলমান
বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান
মোরা সবে ভাই ভাই
নাহি বাঁধা, ব্যবদান
সাঁওতাল ভীম কিবা গারো
চাকমা, মারমা আছে আরো
মোরা এক মায়ের সন্তান
মোদের মাঝে অটুট
ভ্রাতৃতে বিরাজমান
ধর্ম যার যার, তবে
এ বাংলাদেশ সবার
মোরা একথাই বিশ্বাসী
ধর্ম-বর্ণ-জাত নির্বিশেষে
মোরা সবে বাংলাদেশী
তাই কীসের বিবাদ
করো না ঝগড়া-ফাসাদ
ঝেড়ে ফেলো অভিমান
জেনে রাখো মোরা ধর্ম ভেদে
বাংলা মায়ের সন্তান
বিস্তারিত...

মহাজাগতিক ইশতেহার ও এক নশ্বরের চিৎকার

- মো: আবু তালেব

১.

আমি সেই আদিম ভুলের গল্প বলতে এসেছি, যার নাম সভ্যতা।
সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে এই গ্রহের বুকে যে প্রথম কোষটি নড়ে উঠেছিল,
সে জানত না — সে আসলে এক অন্তহীন দাসত্বের বীজ বুনছে নিজের অজান্তে।
আজ যে শিশুটি জন্মাল প্লাস্টিকের চাদরে মোড়া হাসপাতালের বেডে,
কাঁদতে না কাঁদতেই তার পিঠে চাপিয়ে দেওয়া হলো এক অদৃশ্য জোয়াল —
তার নাম রাখা হলো 'নাগরিক', কপালে ঠেসে দেওয়া হলো একটা নম্বর।
মানুষ জন্মায়নি রে — জন্মেছে রাষ্ট্র আর ব্যাংকের নতুন একটা মুখ।
ধিক্কার সেই গর্ভকে, যা প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীন মানুষ না জন্মিয়ে
পৃথিবীতে পাঠাচ্ছে ট্যাক্স-পেয়ার, পাঠাচ্ছে কর্পোরেটের মজুর।

২.

আমি দেখেছি সভ্যতার শেষ প্রান্তে এক অন্ধকার ঘর,
সেখানে প্রতিদিন মানুষের মগজ ধুয়ে সাজিয়ে রাখা হয় কাচের বোতলে।
তোমাদের 'সংস্কৃতি', তোমাদের 'ঐতিহ্য' —
ওগুলো অহংকারের বস্তু নয়,
ওগুলো সেই পুরনো চাবুক, যা দিয়ে খাঁচার পাখিকে গান শেখানো হয়।
তোমরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলো, অথচ একটা পিঁপড়েও তোমাদের চেয়ে মুক্ত —
সে তো অন্তত নিজের নিয়মে হাঁটে,
আর তোমরা মরো অন্যের বানানো কাগজে সই করতে করতে।
তোমাদের প্রেম? সেটুকু স্রেফ হরমোনের অন্ধ খেলা,
যা দিয়ে তোমরা নিজের একাকিত্ব ঢাকো, আর ভাবো — আহা, কী পবিত্র!
যদি এই দাসত্বের নামই হয় প্রগতি,
তবে আমি, এই ব্রহ্মাণ্ডের এক ক্ষণস্থায়ী কবি —
থুতু দিলাম তোমাদের সমস্ত বিবর্তনের মুখে।

৩.

শোনো — তোমরা কেউ মানুষ নও, তোমরা অ্যালগরিদম।
তোমাদের রাগ, তোমাদের বিপ্লব — সবই আগে থেকে গণনা করা,
তোমরা যখন ভাবো বিদ্রোহ করছ, আসলে তখন শাসকের হাতে নতুন বাজার তুলে দিচ্ছ।
তোমাদের পকেটের চারকোনা স্ক্রিনটা প্রতি রাতে তোমাদের মগজ চিবিয়ে খায়,
আর তোমরা বলো — আমি মুক্ত, আমি আধুনিক।
পাশের মানুষটা যখন শ্বাস খুঁজে পাচ্ছে না,
তখন তোমরা আঙুল ঘষো স্ক্রিনে, লেখো — "কী কষ্ট!"
তোমাদের রক্তে লোহা নেই,
ওটা আসলে কর্পোরেটের বর্জ্য, তরল আর ঠান্ডা।
এই মেরুদণ্ডহীন বেঁচে থাকাকে ইতিহাস কোনোদিন ক্ষমা করবে না —
এমনকি ভুলেও না।

৪.

তাই আর সংস্কার নয়, এবার আসুক প্রকৃতির নিজের রায়।
ছিঁড়ে যাক টেকটোনিক প্লেট,
ভেঙে পড়ুক স্যাটেলাইটের জাল,
গুঁড়িয়ে যাক সেই শেয়ার বাজারের পর্দা, যেখানে মানুষের ক্ষুধা নিয়ে জুয়া খেলা হয়।
নদীতে জল নয়,
এবার পৃথিবীর শিরা বেয়ে নেমে আসুক গলিত ক্ষোভ —
যা পুড়িয়ে দেবে লোহা, কংক্রিট, আর মানুষের আঁকা সব মিথ্যে সীমান্ত।
আমি কোনো নতুন ভোরের কথা বলতে আসিনি।
আমি চাই এই অহংকারী, ভণ্ড প্রজাতিটা এই গ্রহ থেকে মুছে যাক চিরকালের জন্য।
পৃথিবী ফিরে যাক তার আদিম নীরবতায় —
যেখানে কোনো সমাজ নেই, কোনো শাসক নেই,
আর নেই মানুষের মতো কোনো স্বেচ্ছা-দাস।
বিস্তারিত...

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ মোঃ আবু তালেব 4401
চোখের নেশার ভালবাসা মোঃ আবু তালেব 1537
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1514
চোখের কাজল মোঃ আবু তালেব 1443
তবে কেন আমি অপরাধী মোঃ আবু তালেব 1443
তোকে নিয়ে… এলোমেলো হাবীব কাশফি 1373
মানুষ মোঃ আবু তালেব 1347
নবী দ্বীনের রাসুল মোঃ আবু তালেব 1327
রমণী মোঃ আবু তালেব 1305
পার্থক্য মোঃ আবু তালেব 1276
চাঁদবদনী মোঃ আবু তালেব 1263
জন্মান্তর মোঃ আবু তালেব 1258
জরুরী বিষয় মোঃ আবু তালেব 1242
করিব আজ রঙ্গ লীলা মোঃ আবু তালেব 1240
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে মোঃ আবু তালেব 1233
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1231
অবিলাষ মোঃ আবু তালেব 1230
রাধা প্রেমের প্রেমিক মোঃ আবু তালেব 1204
শ্যাম তোমারে ভালবেসে মোঃ আবু তালেব 1202
 সুপ্ত-প্রিয়া মোঃ আবু তালেব 1202
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
পল্লী স্মৃতি সুফিয়া কামাল 1514
অনুরোধ কাজী নজরুল ইসলাম 1072
তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1231
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে
মোরা বাংলাদেশী আজহারুল ইসলাম তালহা 11
কিংবদন্তির বাহন আজাহার রাজা 8
নিজের শত্রু নিজেই আজহারুল ইসলাম তালহা 6
ভালো মানুষ ইবনে আলী 68
দুনিয়া তো ক্ষণিকের ইবনে আলী 46
শিকল ইবনে আলী 96
পৃথিবীতে কেবল ক্ষুধাই সত্য আজাহার রাজা 98
নতুন দিনের পৃথিবী যে তোমার অপেক্ষায় ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান 93
জাগরণের ডাক শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 120
বসন্ত জয়দীপ রায় 125
বসন্ত হবো মানব মন্ডল 51
তাহাদের প্রতি শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 205
জীবন ও বৃক্ষ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 170
মানবতা বনাম স্বার্থপরতা: এক যুদ্ধাহত পৃথিবীর আর্তনাদ! শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 169
সোনার দেশ শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 205
মুসলিম সংখ্যালঘু শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 174
বাদলের দিন শাহ্ আলম আল মুজাহিদ 219
তুমি হীনা জান্নাত চাইনা কবি মোঃ নিজাম গাজী 208
প্রশ্নমালার কাঠগড়ায় আজাহার রাজা 194
যদি ভূলে যাও মাসুদ রানা আকন 282
শিরোনাম কবি পঠিত হয়েছে